কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার দাম কত ২০২৫

কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার দাম কত

আপনি যদি মাটি বা গ্যাসের চুলার পাশাপাশি কারেন্টের সাহায্যে রান্নার কাজ করতে চান তাহলে অতি দ্রুত একটি ইন্ডাকশন চুলা ক্রয় করতে পারেন। বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি কোম্পানির তৈরি ইন্ডাকশন চুলা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এ সকল কোম্পানির মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি কোম্পানি হচ্ছে কিয়াম। বর্তমানে কিয়াম কোম্পানির তৈরি ইন্ডাকশন চুলা বেশ চলমান রয়েছে। আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের সাথে কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার দাম কত টাকা তা জানানোর চেষ্টা করব।

কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার দাম কত

উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বর্তমান সময়ে বাংলাদেশেও ইন্ডাকশন চুলার ব্যবহার অনেক অংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশী বিদেশী অনেক ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির তৈরি ইন্ডাকশন চুলা বর্তমান বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। এ সকল উল্লেখযোগ্য কোম্পানির মধ্যে কিয়াম কোম্পানির চুলা গুলো অন্যতম। অনেকেই মনে করে থাকে যে ইন্ডাকশন চুলার দাম অধিক পরিমাণে হয়ে থাকে।

ইন্ডাকশন চুলার ধরন

কিয়াম ইন্ডাকশন চুলা সাধারনত ২ ধরন এর হয়ে থাকে আসলেই Kiam‑র ইনডাকশন চুলা আর ইনফ্রারেড (Infrared) চুলা — দুইটারই আলাদা প্রযুক্তি, এবং প্রত্যেকটারই সুবিধা-অসুবিধা আছে। নিচে তাদের মূল পার্থক্য এবং কখন কোনটা ভালো, সেটার একটা তুলনামূলক সারাংশ দিলাম

ইনডাকশন চুলার সুবিধা

ইনডাকশন চুলা ইলেক্ট্রনিকভাবে (magnetic induction) হেভি প্যানে সরাসরি তাপ তৈরি করে।

  • শক্তি দক্ষতা (Energy efficiency): ইনডাকশন প্রায় ৯০‑৯৫% শক্তি প্যানকে সরাসরি দেয়, অর্থাৎ কম ক্ষয় হয়।
  • দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত রান্না: জল তাড়াতাড়ি ফোটে, এবং তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তন করা যায় — রান্না দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
  • নিরাপদ: চুলার উপরের অংশ তুলনামূলকভাবে ঠাণ্ডা থাকে — ফলে হাত পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম।
  • পরিষ্কারে সহজ: পরিষ্কার করতে সহজ, এবং দাগ বা জল দ্রুত মোছা যায়।

ইনফারেড চুলার সুবিধা

ইনফারেড চুলা: নিচের হিটিং এলিমেন্ট গরম হয়ে Infrared রশ্মির মাধ্যমে তাপ দেয়, যা প্যান বা ভাজার পাত্রকে গরম করে।

  • যেকোনো পাত্র চালায়: কোনো magnetic প্যান না হলেও — গ্লাস, সিরামিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি — কাজ করে।
  • কম খরচে পাওয়া যায়: সাধারণত ইনফারেড চুলার দাম (initial cost) কম হতে পারে ইনডাকশনের তুলনায়।
  • সহজ ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক: যদি আপনার প্যান‑ভাণ্ডার মিশ্র হয় বা নতুন cookware না নিতে চান, ইনফারেড উপযোগী।

কিন্তু না আপনি চাইলে গ্যাসের চুলা যে পরিমাণ দাম রয়েছে ঠিক এর চেয়ে কম মূল্যেই ইন্ডাকশন চুলা গুলো ক্রয় করতে পারবেন। ইন্ডাকশন চুলা মূলত কারেন্টের সাহায্যে চলে থাকে। সুতরাং এটি ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই আপনাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আপনি চাইলে বর্তমান বাজারে ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত ইন্ডাকশন চুলা ক্রয় করতে পারবেন। এই পণ্যটির আরো বিস্তারিত দাম জানতে হলে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ুন।

কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার দাম

ছোট থেকে বড় বা মাঝারি সাইজের কিয়াম কোম্পানির তৈরি ইন্ডাকশন চুলা বর্তমান বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। পন্যের সাইজ বা গুণগতমানের উপর নির্ভর করে ইন্ডাকশন চুলার দাম বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যারা রান্নার গ্যাস সাশ্রয় করার জন্য ইলেকট্রিক বা ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করতে ইচ্ছুক তারা নির্দ্বিধায় কিয়াম কোম্পানির ইন্ডাকশন চুলা ক্রয় করতে পারেন।

ইন্টারনেটে অনেকেই জানতে চায় যা কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার দাম কত টাকা। যেহেতু বলেছি যে পন্যের গুনগত মানের উপর নির্ভর করে এর দাম নির্ধারণ করা হয় তাই বর্তমান বাজারে আপনি ৩ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬ টাকা পর্যন্ত কিয়াম ইন্ডাকশন চুলা কিনতে পারবেন। আপনার নিকটস্থ ইলেকট্রনিক্স এর দোকানে অথবা জেলা শহরে কিয়াম কোম্পানির এই ইন্ডাকশন চুলা কিনতে পারবেন।

জনপ্রিয় কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার মডেল:

কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার মডেলদাম
Kiam Infrared Cooker H-88৪,২০০ টাকা
Kiam Infrared Cooker H-66 Silver৩,৮৫০ টাকা
Kiam Infrared Cooker H-11৪,৫০০ টাকা
Kiam Infrared Cooker H-66 Gold৪,৪০০ টাকা
Kiam Induction Cooker H-22 (Premium)৩,৮৫০ টাকা

ইনডাকশন কুকারের সুবিধা

আপনি যদি বাসা বাড়িতে ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনি বেশ কিছু সুবিধা পেতে পারেন। একদিকে যেমন গ্যাসের তুলনায় ইন্ডাকশন চুলা ব্যবহার করা সাশ্রয়ী ঠিক তেমনি অতি দ্রুত এই চুলার সাহায্যে রান্না করা যায়। অনেকে ইন্টারনেটে জানতে চায় ইন্ডাকশন কুকারের সুবিধা কি কি। তাই আপনাদের সুবিধার্থে নিচের অংশে এই চুলা ব্যবহারের কিছু উপকারিতা বা সুবিধা শেয়ার করেছি।

  • দ্রুত তাপ সৃষ্টি: ইনডাকশন কুকারে তাপ সৃষ্টি হওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত, যা আপনাকে সময় সাশ্রয় করতে সাহায্য করে।
  • উন্নত তাপীয় ক্ষমতা: অন্য সকল রান্নার পাত্রের তুলনায় ইনডাকশন কুকারের তাপীয় ক্ষমতা অনেক উন্নত।
  • স্থিতিশীল তাপ নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘ সময় ধরে স্থিরভাবে তাপ সৃষ্টি করতে ইনডাকশন কুকারের সমকক্ষ কিছু নেই।
  • নিরাপত্তা: হটপ্লেটের তুলনায় ইনডাকশন কুকার নিরাপদ, কারণ এর বাইরে রন্ধন-পৃষ্ঠে তাপ সৃষ্টি হয় না।

বর্তমান যুগ পূর্বের তুলনায় অনেক আধুনিক হয়েছে। আপনাকেও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অবশ্যই আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। পূর্বে যে রকম শুধুমাত্র লাকড়ি দিয়ে রান্না করা হতো কিন্তু বর্তমানে তা প্রায় বিলুপ্তের পথে। ঠিক তেমনি গ্যাসের চুলার পাশাপাশি বর্তমানে ইলেকট্রিক চুলা বা ইন্ডাকশন চুলার ব্যবহার অত্যাধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে এখন উন্নত মানের বিভিন্ন কোম্পানির ইন্ডাকশন চুলা কিনতে পাওয়া যায়। এ সকল কোম্পানিগুলোর মধ্যে কিয়াম কোম্পানির তৈরি ইন্ডাকশন চুলা অত্যন্ত ভালো মানের। অনেকেই কিয়াম ইন্ডাকশন চুলা কত টাকা তা খুঁজে থাকে। বর্তমানে আপনি কিয়াম কোম্পানির এই ইন্ডাকশন চুলা গুলির ৫০০০ টাকার মধ্যেই ক্রয় করতে পারবেন।

শেষ কথা

যেহেতু ইন্ডাকশন চুলা কাজ করার মূল বিষয় হচ্ছে বিদ্যুৎ বা কারেন্ট, তাই অতি সাবধানতার সাথে এই চুলাটি ব্যবহার করা উচিত। আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আমি আপনাদের সাথে কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার দাম কত তা জানানোর চেষ্টা করেছিলাম। আশা করি ইতিমধ্যেই আপনি এই পোষ্টের মাধ্যমে কিয়াম কোম্পানি কর্তৃক তৈরিকৃত ইন্ডাকশন চুলা বা বৈদ্যুতিক চুলার দাম সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন।

1 thought on “কিয়াম ইন্ডাকশন চুলার দাম কত ২০২৫”

  1. অজ্ঞানী মুর্খ

    আরে, দর্শক পাঠকদেরকে ঠকানোর জন্য ইন্ডাকশন আর ইনফ্রারেড চুলার বিবরণ একসাথে দিয়ে নিজের জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছেন না কি জানেন‌ই না। পোস্টটা দ্রুত সংশোধন করে ফেলেন। ইনফ্রারেড চুলায় সাধারণ কয়েলের হিটারের মতো খরচ হয়। সেখানে ইন্ডাকশনে বিদ্যুৎ খরচ বেশ কম হয় , শর্ত হচ্ছে শুধু লৌহ জাত পাত্র ব্যবহার করতে হবে। এটা না জানিয়ে অনেক দোকানদার ইন্ডাকশনের পরিবর্তে ইনফ্রারেড চুলা বিক্রি করে। আপনারাও কি সেই কাজ করেছেন না?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top